Sujood

كَيْفِيَّةُ الصَّلَاة

আপনার প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ

এখানে নামাজের আটটি অবস্থা দেওয়া হলো, যে ক্রমে আপনি সেগুলো আদায় করবেন। প্রতিটিতে দেখানো হয়েছে তখন আপনার শরীর কেমন থাকবে আর সেখানে কী পড়তে হবে। আটটি অবস্থা একবার শেষ করলে এক রাকাত হয়।

এক রাকাত

  1. দাঁড়ানো
  2. রুকু
  3. দাঁড়ানো
  4. সিজদা
  5. বসা
  6. সিজদা

পরের রাকাত

১ দাঁড়ানো: তাকবীর تكبيرة الإحرام

হাত তোলা, তারপর বাঁধা

কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ান। দুই হাত কাঁধ বরাবর বা কান বরাবর তুলুন, তাকবীর বলুন, তারপর হাত বুকের ওপর বা পেটের ওপর বাঁধুন। এখান থেকেই আপনি নামাজের ভেতরে।

اللهُ أَكْبَر

আল্লাহু আকবার

"আল্লাহ সবচেয়ে বড়।" একবার, শব্দ করে।

২ দাঁড়ানো: কিরাত القيام

দৃষ্টি সিজদার জায়গায়

হাত বাঁধা অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকুন। শুধু প্রথম রাকাতে নিচু স্বরে সানা (শুরুর দোয়া) পড়ুন। তারপর আউযু বিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতিহা পড়ুন। এটা প্রতি রাকাতেই পড়তে হয়, অন্য কিছু দিয়ে এর জায়গা পূরণ হয় না। প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে একটি ছোট সূরা মিলিয়ে পড়ুন।

শুধু প্রথম রাকাতে, নিঃশব্দে

সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা...

তারপর আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلَٰهَ غَيْرُكَ

সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক।

"হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র, আর সব প্রশংসা আপনার। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মহিমা সুউচ্চ, আর আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।"

তারপর আউযু বিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ

أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ · بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

"আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। পরম দয়াময়, বিশেষ দয়ালু আল্লাহর নামে।"

প্রতি রাকাতে

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

সূরা ফাতিহা, তারপর আমীন

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন

الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

আর রাহমানির রাহীম

مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ

মালিকি ইয়াওমিদ্দীন

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকীম

صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদূবি আলাইহিম ওয়ালাদ দোয়াল্লীন

তারপর বলুন: آمِين আমীন

"সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক, পরম দয়াময়, বিশেষ দয়ালু, বিচার দিবসের মালিক। আমরা শুধু আপনারই ইবাদত করি, আর শুধু আপনারই কাছে সাহায্য চাই। আমাদের সরল পথ দেখান, তাদের পথ যাদের আপনি অনুগ্রহ করেছেন, তাদের পথ নয় যারা ক্রোধের পাত্র হয়েছে, আর তাদেরও নয় যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।"

প্রথম দুই রাকাতে: একটি ছোট সূরা (সূরা ইখলাস)

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۝ اللَّهُ الصَّمَدُ ۝ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۝ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

"বলুন: তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ, চিরন্তন আশ্রয়স্থল। তিনি কাউকে জন্ম দেন না, কারও থেকে জন্মও নেননি, আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।"

৩ রুকু الرُّكوع

পিঠ সমান, হাত হাঁটুতে

তাকবীর বলে রুকুতে যান। কোমর থেকে ঝুঁকুন, যতক্ষণ না পিঠ সমান হয় আর মাথা পিঠের সাথে এক সোজা রেখায় থাকে। আঙুলগুলো ফাঁক করে হাঁটুর ওপর রাখুন, হাত ও পিঠ সোজা রাখুন, আর কিছু বলার আগে স্থির হয়ে নিন।

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ

সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম

"পবিত্র আমার প্রতিপালক, যিনি সর্বমহান।" তিনবার, নিচু স্বরে।

৪ রুকু থেকে ওঠা الاعتدال

সোজা দাঁড়ানো, হাত দুই পাশে

পুরোপুরি সোজা হয়ে দাঁড়ান, আর ওঠার সময়েই কথাগুলো বলুন। এখানে একটু থামুন। এটা শুধু একটা নড়াচড়া নয়, এটা নিজেই নামাজের একটি আলাদা অবস্থা।

ওঠার সময়

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ

সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর

رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ

চাইলে আরও লম্বা করে বলতে পারেন

হামদান কাসীরান তাইয়্যিবান মুবারাকান ফীহ, মিলআস সামাওয়াতি ওয়া মিলআল আরদি ওয়া মিলআ মা শি'তা মিন শাইয়িন বা'দ।

"অনেক, পবিত্র, বরকতময় প্রশংসা, যা আসমান ভরে দেয়, জমিন ভরে দেয়, আর আপনি আর যা কিছু চান তা-ও ভরে দেয়।"

৫ সিজদা السُّجود

সাতটি অঙ্গ মাটিতে লাগে

তাকবীর বলে নিচে যান। কপাল, নাক, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু আর দুই পায়ের আঙুল, সবই মাটিতে থাকবে, মোট সাতটি অঙ্গ। কনুই মাটি থেকে ওপরে রাখুন, আর শরীরের দুই পাশ থেকে দূরে রাখুন।

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى

সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা

"পবিত্র আমার প্রতিপালক, যিনি সর্বোচ্চ।" তিনবার, নিচু স্বরে।

চাইলে এটাও যোগ করতে পারেন

سُبُّوحٌ قُدُّوسٌ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ

সুব্বূহুন কুদ্দূসুন, রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রূহ।

"সর্বদোষমুক্ত, পবিত্র, ফেরেশতাদের ও রূহের প্রতিপালক।"

আবশ্যক তাসবীহ পড়ার পর, এখানেই আপনি যা খুশি চাইতে পারেন, যেকোনো ভাষায়।

৬ দুই সিজদার মাঝে বসা الجلسة

ভাঁজ করা পায়ের ওপর বসা

তাকবীর বলে উঠে বসুন। বাম পা ভাঁজ করে নিচে বিছিয়ে তার ওপর বসুন, ডান পা খাড়া রাখুন আর আঙুলগুলো কিবলার দিকে রাখুন, আর দুই হাত উরুর ওপর রাখুন। পরের ধাপে যাওয়ার আগে স্থির হয়ে বসুন।

رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي

রাব্বিগফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াজবুরনী, ওয়ারফা'নী, ওয়ারযুকনী, ওয়াহদিনী, ওয়া আফিনী

অথবা শুধু: রাব্বিগফিরলী, রাব্বিগফিরলী

رَبِّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاجْبُرْنِي، وَارْفَعْنِي، وَارْزُقْنِي، وَاهْدِنِي، وَعَافِنِي

"হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমার ঘাটতি পূরণ করে দিন, আমাকে উঁচু করুন, আমাকে রিজিক দিন, আমাকে সঠিক পথ দেখান, আর আমাকে সুস্থতা দিন।"

৭ দ্বিতীয় সিজদা السجود الثاني

প্রথম সিজদার মতোই

তাকবীর বলে আগের মতো ঠিক একইভাবে আবার সিজদা করুন, একই তাসবীহ পড়ুন। এতে এক রাকাত পূর্ণ হলো। তাকবীর বলে পরের রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। জোড় সংখ্যক রাকাতের পরে দাঁড়াবেন না, বরং তাশাহহুদের জন্য বসে থাকুন।

সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা

তিনবার, নিচু স্বরে

৮ শেষ বৈঠক ও সালাম التشهد والسلام

শাহাদাতের সময় শাহাদাত আঙুল তোলা

৬ নম্বর ধাপের মতো করে বসুন এবং তাশাহহুদ পড়ুন। ঈমানের সাক্ষ্য (শাহাদাত) বলার সময় শাহাদাত আঙুল তুলুন। শেষ বৈঠকে এর সাথে দরুদ ও একটি দোয়া পড়ুন। তারপর ডানে ও বামে মাথা ফিরিয়ে সালাম ফিরান। ব্যস, আপনার নামাজ শেষ।

প্রতি বৈঠকে

আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যিবাত...

তারপর, শেষ বৈঠকে: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ... এবং একটি দোয়া

তাশাহহুদ

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَىٰ عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ।

"সকল অভিবাদন, সকল নামাজ ও সকল পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার ওপর শান্তি, আর আল্লাহর রহমত ও বরকত। শান্তি আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।"

দরুদে ইবরাহীম, শুধু শেষ বৈঠকে

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَىٰ مُحَمَّدٍ وَعَلَىٰ آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَعَلَىٰ آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহীমা ওয়া আলা আলি ইবরাহীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

"হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত দিন, যেমন আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারের ওপর বরকত দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত।"

সালামের আগে দোয়া

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ، وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন আযাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন আযাবিল কবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাত, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল।

"হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের শাস্তি থেকে, কবরের শাস্তি থেকে, জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে, এবং মিথ্যা মাসীহ দাজ্জালের পরীক্ষার অনিষ্ট থেকে।"

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

দুইবার: প্রথমে ডানে, তারপর বামে

কোন নামাজে কত রাকাত

নামাজরাকাত
ফজর ২ দুই রাকাতেই কিরাত জোরে পড়া হয়
যোহর ৪ সবকিছু নিচু স্বরে পড়া হয়
আসর ৪ সবকিছু নিচু স্বরে পড়া হয়
মাগরিব ৩ প্রথম দুই রাকাত জোরে, তৃতীয়টি নিচু স্বরে
এশা ৪ প্রথম দুই রাকাত জোরে, শেষ দুই রাকাত নিচু স্বরে

শুধু প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে একটি ছোট সূরা মিলিয়ে পড়ুন। প্রতি দুই রাকাত পর তাশাহহুদের জন্য বসুন। ফজরে সেই বৈঠকটিই শেষ বৈঠক।